
Return To MULKILA “a self supported Expedition”(6517 M)2026
২০১৮ সালে সোনারপুর আরোহীর প্রথম মূলকিলা অভিযান খুব অল্পের জন্য সফলতার শিখর স্পর্শ করতে পারেনি। সেই অপূর্ণ স্বপ্নকে সঙ্গী করেই এবার আরও বেশি প্রস্তুত, আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং আরও বেশি সজাগ আমাদের দল।
সোনারপুর আরোহী’র সেল্প সাপোর্টেড মূলকিলা (M4) ও স্পাইক (M5) অভিযানের দল গতকাল রাতে মানালি ফিরেছে। 5 জুন বেসক্যাম্পে পৌঁছে প্রথম 5/6 দিন ওয়েদার দারুণ ছিল। দুটো ভীষণ টেকনিকাল পর্বত হওয়ায় প্রচুর ইকুইপমেন্ট ও ফুড সামিট ক্যাম্পে পৌঁছতে সময় লাগে 18 জুন পর্যন্ত। ইতিমধ্যে দল মূলকিলার (M-4) এর 6277 মিটার পর্যন্ত প্রায় 400 মিটারের দেওয়ালে রোপ ফিক্সড করে সামিট রিজে পৌঁছায় দুদিনে। 18 জুন রাতেই ঠিক হয় অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার স্পাইকে এটেম্পট হবে পরের দিন। আমরা বুঝতে পারছিলাম সব সম্ভাবনা আস্তে আস্তে ওয়েদারের কারণে হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার জোগাড় হচ্ছে। তাই 19 তারিখে ভোর 5 টায় সামিট ক্যাম্প ছেড়ে অ্যালপাইন স্টাইলে 5760 মিটারের সামিট ক্যাম্প থেকে 6370 মিটারের স্পাইকের উদ্দেশ্যে বের হয় সাত জন অ্যালপাইন স্টাইলে। ক্যালকুলেশন ভূল হয়। সেদিন ছিল এবারের অভিযানের সবথেকে খারাপ দিন। আবহাওয়ার কারণে। 6050 মিটারে উঠে এলাম দুই ঘণ্টার মধ্যে। দুর্যোগ আরো বাড়লো। সেখানেই গোল হয়ে ভীষণ ঠান্ডা হাওয়ার মধ্যে কোনরকমে ( গান গেয়ে) দু ঘন্টা নিজেদের কে কোনরকমে কাটানোর পরে ওয়েদার সামান্য ধাতস্থ হতে সকাল ন’টায় ৭০-৮০ ডিগ্রীর দেয়াল ধরে শেষ ক্লাইম্ব চলল রোপ আপে। শেষ 100 মিটার থেকে ৬০ থেকে ৯০ ডিগ্রি পর্যন্ত বা একটি জায়গায় ওভারহ্যাং ক্লাইম্ব করলো নৈতিক আর দেবাশীষ। ফিক্সড রোপে শেষ ১০০ মিটার ক্লাইম্ব করে স্পাইকের মাথায় উঠে এলো শেষমেশ দলের রুদ্রপ্রসাদ হালদার, নৈতিক নস্কর, দেবাশীষ মজুমদার, সুব্রত চক্রবর্তী, দীপাশ্রী পাল, অনির্বাণ তালুকদার ও অপরেশ সন্নিগ্রহী । ট্রু সামিট জিপিএস রিডিং দিল 6288 মিটার। বাস্তবে স্পাইকের উচ্চতা ম্যাপে দেখানো আছে 6370 মিটার। সেদিন ছিল এই অভিযানের সবথেকে খারাপ আবহাওয়ার দিন। সামিট করে ফেরার পথে একটা ১০ সেকেন্ডের সিনেম্যাটিক 20 মিটারের ফল হয় পুরো দলের রোপ আপে ক্লাইম্ম্ব ডাউন করার সময়।। মুহূর্তের মধ্যে আরেষ্ট করতে পারি আমরা। শেষমেষ রাতে 18 ঘন্টার সামিট মার্চ শেষে সামিট ক্যাম্প পৌঁছায় পুরো দল সেইফলি। M5 বা স্পাইক ক্লাইম্ব করলো সাতজন। কুড়ি তারিখ সারাদিন ওয়েদার আরো খারাপ হয়। আমরা ডিসিশন নিতে বাধ্য হই সামিট ক্যাম্প ছাড়ার। কারণ 23 তারিখে মানালি ফিরতেই হবে। তাই ভীষণ এডভ্যার্স কন্ডিশনের মধ্যে সামিট ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে কোনরকমে ক্যাম্প টু গুটিয়ে রাতে ক্যাম্প ওয়ান পৌঁছলাম সমস্ত মালপত্র গুটিয়ে রাত এগারোটায়। অধরা রয়ে গেল মূলকিলা এবারেও। আগের বারে ২০১৮ তে 151 মিটার থেকে ফিরেছিল সোনারপুর আরোহী । এবারেও 6277 মিটার পর্যন্ত রুট ওপেন করেও আবহাওয়া সাথ না দেওয়ায় আর সময় না থাকায় ছেড়ে আসতে হলো মূলকিলাকে। আমরা এখন সবাই সুস্থ। ২৭ জুন সকালে কলকাতা পৌঁছাবে সবাই।
.